|
Article in other languages:
|
জাপান (জাপানি ভাষায়: 日本 নিপ্পোং বা নিহোং) এশিয়া মহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। দেশটি এশিয়া মহাদেশের পূর্ব উপকূলের কাছে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৩,০০০ দ্বীপ নিয়ে জাপান গঠিত। চারটি প্রধান দ্বীপ হল হনশু, হোক্কাইদো, কিয়ুশু এবং শিকোকু। এছাড়াও এখানে আরও অনেক ছোট ছোট দ্বীপ আছে। জাপানিরা জাপানি ভাষায় তাদের দেশকে নিহোং বা নিপ্পোং বলে ডাকে, যার অর্থ "সূর্যের উৎস"। জাপান চীনা সাম্রাজ্যগুলির পূর্বে অবস্থিত বলে এরকম নাম করা হয়েছিল। ইংরেজিতে জাপানকে অনেক সময় "land of the rising sun" অর্থাৎ সূর্যোদয়ের দেশ বলা হয়। টোকিও (জাপানি ভাষায় 東京 তোওকিয়োও) জাপানের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। এশিয়ার মূল ভূখন্ডের মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপ জাপানের সবচেয়ে কাছে, মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে, অবস্থিত। অন্য কোন দেশের সাথে জাপানের স্থলসীমান্ত নেই। কাছেই রয়েছে পূর্ব রাশিয়া, যা ওখটস্ক সাগর ও জাপান সাগরের অপর পারে অবস্থিত। দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া কোরিয়া প্রণালী ও জাপান সাগরের অপর পারে এবং দক্ষিণ-পূর্বে পূর্ব চীন সাগরের অপর প্রান্তে তাইওয়ান ও চীনা মূল ভূখণ্ড অবস্থিত। জাপানের ভূ-প্রকৃতি পর্বতময়। দেশটির ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকাই পাহাড়ি। ঐতিহাসিকভাবে এই পর্বতগুলি জাপানের অভ্যন্তরে পরিবহনে বাধার সৃষ্টি করেছিল, জাতীয় ঐক্য ব্যহত করেছিল এবং অর্থনৈতিক উন্নতি বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন এলাকাতে সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল। তবে আধুনিক যুগে সুড়ঙ্গ, সেতু এবং বিমান পরিবহনের আবির্ভাবের ফলে পর্বতগুলি এখন আর তেমন বড় বাধা নয়। জাপানিরা বহুদিন ধরেই শিল্পে ও সাহিত্যে তাদের পর্বতগুলির সৌন্দর্যের স্তুতি গেয়ে এসেছে। বর্তমানে অনেক পার্বত্য এলাকাই জাতীয় উদ্যান আকারে সংরক্ষিত। জাপানের বেশির ভাগ মানুষ নদীসমূহের নিম্ন অববাহিকার সমভূমি ও নিম্নভূমিতে, বা পাহাড়ের একেবারে পাদদেশের ঢালগুলিতে, কিংবা সমুদ্রের তীরে বাস করে। জাপান বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। টোকিও ও কোবে নগরীর মধ্যবর্তী নগর এলাকাটিতে জনঘনত্ব অত্যন্ত উচ্চ। জাপানের ১৭% ভূমিবিশিষ্ট এই এলাকাটিতে জাপানের মোট জনসংখ্যার ৪৫% বসবাস করেন। জাতিগতভাবে ও সংস্কৃতিগতভাবে সমগ্র জাপানে প্রায় একই ধরনের লোকের বাস। জাপানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা খুবই কম। জাপানি ভাষাই প্রধান ভাষা। বৌদ্ধ ধর্ম ও জাপানের নিজস্ব শিন্তো ধর্ম এখানকার প্রধান ধর্ম। জাপান বিশ্বের বুকে একটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি। এখানকার মানুষের গড় আয় ও জীবনযাত্রার মান বিশ্বের সর্বোচ্চগুলির একটি। অত্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত উচ্চ মানের ভোগদ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশটির অর্থনীতি সফলতা লাভ করেছে। জাপানে উৎপাদিত দ্রব্যের মধ্যে বিভিন্ন জাপানি ব্র্যান্ডের মোটরযান, ক্যামেরা, কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং সাউন্ড সিস্টেম বিশ্বখ্যাত। জাপানে ৭ম শতক থেকে একজন সম্রাট শাসন করে আসছেন। ১২শ শতকে শোগুন নামের সামরিক শাসকদের উদ্ভব ঘটে। শোগুনেরা ছয় শতকেরও বেশি সময় ধরে সম্রাটের সাথে ক্ষমতার অংশীদার ছিল। ১৭শ শতকের শুরুতে একটি শক্তিশালী সামরিক সরকার প্রায় সব বিদেশীর জন্য দেশটির সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ১৯শ শতকে জাপান একটি সমৃদ্ধিশালী অর্থনীতি নিয়ে প্রবেশ করলেও প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তিতে এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে পিছিয়ে ছিল। মধ্য-১৯শ শতকে জাপানের সাথে বাণিজ্য করতে আগ্রহী পশ্চিমা দেশগুলির চাপে জাপানের শোগুনদেরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং সম্রাটকে ক্ষমতায় বসানো হয়। ১৯শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মেইজি রাজবংশের সম্রাটদের অধীনে জাপান দ্রুত আধুনিকায়ন ও শিল্পায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সাথে কোরিয়া, চীন এবং এশিয়ার অন্যান্য অংশে জাপানি সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান অক্ষশক্তিদের পক্ষে যুদ্ধ করে। জাপানের পরাজয়ের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং এতে দেশের বেশির ভাগ শিল্পকারখানা, পরিবহন নেটওয়ার্ক, এবং নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধে পরাজয়ের কারণে জাপান তার উপনিবেশগুলিও হারায়। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সামরিকভাবে জাপান দখল করে এবং এর সরকার পরিচালনা করে। সংশোধিত সংবিধান অনুসারে সম্রাটকে আলংকারিক রাষ্ট্রপ্রধান বানানো হয়। যুদ্ধ-পরবর্তী এই পর্বে জাপান অত্যন্ত দ্রুত ধ্বসে পড়া অর্থনীতি ও সমাজ আবার গড়ে তোলে। ১৯৭০-এর দশকে মাঝামাঝি নাগাদ দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আরও বহু দেশের সাথে অর্থকরী বাণিজ্যে লিপ্ত হয়। এভাবে আবার বিশ্বের বুকে একটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে জাপানের পুনরুত্থান ঘটে।
ইতিহাসরাজনীতিপ্রশাসনিক অঞ্চলসমূহভূগোলঅর্থনীতিযানবাহন
শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেন হচ্ছে জাপানের সাধারণ যানবাহন
জাপানের পরিবহন অবকাঠামো ব্যয়বহুল এবং আধুনিক। জাপানের রাস্তাগুলো পাকারাস্তা এবং বামহাতি ট্রাফিক পদ্বতি। জাপানের অনেকগুলো রেলওয়ে কোম্পানি যানবাহনের বাজারে লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া বড়-বড় শহরে উচ্চগতি সম্পন্ন শিনকানসেন (জাপানি: 新幹線 শিংকান্সেং অর্থাৎ "নতুন মূল লাইন") লক্ষ্য করা যায়। জাপানে রয়েছে ১৭৩টি বিমানবন্দর, যার মধ্যে টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর হচ্ছে বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর আর একই শহরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হচ্ছে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। জনসংখ্যাসংস্কৃতি
জাপানিরা অনবরত বিদেশি সংস্কৃতি গ্রহণ করে , সেই সংগে জন্মায় তাদের নিজেদের সংস্কৃতির বৈশিষ্ট। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দি থেকে খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দি পর্যন্ত খেয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার সংস্কৃতি জাপানে প্রবেশ করে। পরে সুই রাজবংশ ও থাং রাজবংশের ফলে চীনা সংস্কৃতি জাপানে প্রবেশ করে। এরপর দশম শতাব্দিতে জাপান ও অন্যান্য পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহের সাথে যোগাযোগ কম হওয়ার কারণে জাপানে আসে তাদের নিজস্ব স্টাইলের সংস্কৃতি। ষোড়শ শতাব্দির মধ্যভাগে ইউরোপের সংস্কৃতি জাপানে প্রবেশ করে তাদের সংস্কৃতির বিরাট পতন ঘটিয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দির পরে এডো যুগে পুনরায় আস্তে আস্তে জাপানের সংস্কৃতির উন্নয়ন হতে শুরু করে। মেইজি যুগে জাপানে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি প্রবেশ করে জাপানের সংস্কৃতির বিরাট পরিবর্তন আসে।যেমন: ক্রীড়া, চলচ্চিত্র ইত্যাদি। কিন্তু ১৯২০ সালের পর দ্বিত্বীয় বিশ্বযুদ্ব চলাকালীন পাশ্চাত্য সংস্কৃতি বেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। দ্বিত্বীয় বিশ্বযুদ্বের পর মার্কিন সংস্কৃতির প্রভাবে জাপানিদের সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রায় ব্যপক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এতে করে জাপানিদের নিজস্ব প্রাচীন সংস্কৃতির মান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিল। জাপানি অর্থনীতির দ্রুত উন্নয়ন হয়েছে আর এর পিছনে জাপানি অ্যানিমে এবং ইলেকট্রনিক গেম্সের বিরাট অবদান রয়েছে কারণ জাপানি অ্যানিমে এবং ইলেকট্রনিক গেম্স বিদেশের বাজারে খুব ভালো চলেছে। বর্তমানে জাপানে রয়েছে ১৪টি বিশ্ব ঐতিহ্য, তারমধ্যে ১১টি হচ্ছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অবশিষ্ট ৩টি হচ্ছে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য।[১] ক্রীড়াআরও দেখুনতথ্যসূত্র
বহিঃসংযোগ
এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।
Questions for article: |
||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||||
This article is from Wikipedia. All text is available under the terms of the GNU Free Documentation License.
IHS Europe: Infrared Heating Systems for Home and Business.